সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ১ হাজার ছাড়াল

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনো ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলোর তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি রোববার জানিয়েছে, সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নেপাল ও চীনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে। দুই দেশে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬২।

নেপালের দুর্গত এলাকাগুলোর মধ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভারী কাদার স্তরে প্রকল্পটির একটি অংশ ঢেকে গেছে। সেখানে কর্মরত প্রায় ৯০০ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

দুর্যোগের মধ্যে নেপালে উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রিয়া অধিকারী। তিনি দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন এবং একমাত্র নারী উদ্ধারকারী পাইলট হিসেবে পরিচিত। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে মানুষকে উদ্ধারে তিনি প্রায় ১০০টি মিশনে অংশ নিয়েছেন।

বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার পর পাঁচ বছর বয়সী মনীষা মাগারকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল তাঁর পরিবার। পরে একটি ভিডিও ফুটেজে তাঁর বাবা-মা সন্তানকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্য দেখতে পান। এমন কিছু ঘটনায় স্বজনেরা আশার আলো দেখলেও বহু পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে মরদেহ শনাক্ত করে হস্তান্তরের কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন নেপাল পুলিশের উপপরিদর্শক হরি শরণ ঢাকল। ভরতপুরে নেপাল পোল্ট্রি এন্টারপ্রেনার্স ফোরামের কার্যালয়কে অস্থায়ী মরদেহ শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।

ঢাকলের কাছে নিখোঁজ ৮৩৭ জনের একটি তালিকা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি ১২টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে পেরেছেন। তবে নদীতে কয়েক দিন পড়ে থাকার কারণে অনেক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি—এমন শত শত মরদেহ গণকবর দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি মরদেহ শনাক্তকরণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকল বলেন, কাজটি অত্যন্ত কঠিন। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আসা মানুষের কান্না ও কষ্ট তাঁদেরও গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন