সর্বশেষ

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে ফুটপাতে পরিচয়হীন বৃদ্ধের এক বছর: মেলেনি স্বজনদের খোঁজ

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ
শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের সামনের ফুটপাতে এক বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এক পরিচয়হীন বৃদ্ধ। কনকনে শীত, প্রখর রোদ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটানো প্রায় ৭৫ বছর বয়সী এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দিন যায়, মাস যায়, কিন্তু পরিচয়হীন এই বৃদ্ধের খোঁজ নিতে আসেননি কোনো স্বজন। বয়সের ভারে শ্রবণশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলা এই বৃদ্ধ কথা বলতে পারেন খুবই সামান্য। অস্পষ্ট স্বরে বাড়ি হিসেবে শুধু ময়মনসিংহের 'বেগুনবাড়ি'র নাম বলতে পারেন তিনি। হাতে লাঠি ভর দিয়ে অত্যন্ত ধীর পায়ে খুঁড়িয়ে চলেন এই বৃদ্ধ। ক্ষুধা লাগলেও অনেকেই খাবার দিলে তা ঠিকমতো মুখে তুলতে পারেন না, কেবল ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজু মিয়া জানান, প্রায় এক বছর আগে সকালে দোকান খোলার সময় তিনি পাগলা মসজিদের পাশের সেতুর ফুটপাতে ওই বৃদ্ধকে বসে থাকতে দেখেন। এরপর মানবতার খাতিরে ফুটপাতের একটি পরিত্যক্ত ভাঙা দোকানের নিচে তাঁর থাকার জন্য কিছুটা ব্যবস্থা করে দেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রচণ্ড শীত—সব ঋতুতেই ওখানেই পড়ে থাকেন তিনি। অসুস্থতার কারণে তাঁর দ্রুত সুচিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

এলাকার আরেক বাসিন্দা হীরা মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধের পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা করেও কোনো ফল মেলেনি। এখন প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নেন এবং পরিবারের সন্ধান করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর হন, তবেই হয়তো এই বৃদ্ধ তাঁর আপনজনদের কাছে ফিরে যেতে পারবেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন গণমাধ্যমকে জানান, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুতই অসহায় এই বৃদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

১৩৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন