সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

নেপালে শুরু গণকবর: লাশ শনাক্তে ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি অবলম্বন!

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে। নদীর তীর, কাদা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ মিলছে। অনেক মরদেহ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মর্গগুলোতে জায়গা না থাকায় কোথাও কোথাও গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। স্বজনদের সহায়তায় মরদেহ শনাক্তে ছবি দেখানোর পাশাপাশি ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধারকারীদের সামনে এখন নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্ত করা। নদীর পানির সঙ্গে ভেসে আসা মরদেহের পাশাপাশি কাদায় চাপা পড়া অবস্থাতেও দেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত হয়েছে যে চেহারা দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

মরদেহগুলো নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য হাসপাতালের মর্গগুলোর সক্ষমতাও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে চিতওয়ানসহ কয়েকটি এলাকায় গণকবর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলো গণকবরে রাখার আগে প্রতিটির সঙ্গে একটি ট্যাগ ও অবস্থান নম্বর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চিতওয়ান জেলায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। জেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ২৫০টির বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে ব্যাপক বিকৃতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র নয়টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। জেলার একটি জঙ্গল এলাকাতেও মরদেহ দাফনের জন্য গণকবর তৈরি করা হয়েছে।

মরদেহ শনাক্তের কাজ দ্রুত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে ভিন্ন ধরনের পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হচ্ছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ছবি সংগ্রহ করে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশো তৈরি করা হয়েছে। স্বজনদের একটির পর একটি ছবি দেখানো হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এক ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। গলার হার, বিয়ের আংটি, উল্কি, পুরোনো ক্ষত বা শরীরের অন্য কোনো বিশেষ চিহ্ন খুঁজে দেখতে বলা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটেও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি মর্গের বাইরের দেয়ালেও ভেতরে থাকা মরদেহগুলোর ছবি টানানো হয়েছে, যাতে স্বজনেরা এসে সেগুলো দেখে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করতে পারেন।

নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে আছে।

নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাই রোববার জানান, নিহতদের মরদেহ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সরকার এক হাজারের বেশি ফ্রিজার ইউনিট চেয়েছে।

নদী উপত্যকার কিছু নিচু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ এখনো চালু থাকলেও উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কাদার নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে।

ত্রিশূলী নদীর তীরের শহর দেবীঘাটেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানকার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আমাবাদুত্ত ভট্ট জানান, এখন পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার পানির স্রোতে বহু বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ধ্বংস হয়েছে। পুরো এলাকা থেকে কাদা সরাতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহগুলোর কী অবস্থা হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষজন ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়ির এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের ঘরবাড়ি আর নেই। ৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালির বাড়িতে এখন কেবল কয়েকটি কংক্রিটের ব্লক ও বেঁকে যাওয়া ধাতব কাঠামো পড়ে আছে। এই বাড়িতেই তিনি চার সন্তান ও তিন নাতি-নাতনিকে বড় করেছেন।

উষা নেপালি বলেন, জীবনের সবকিছু তিনি এই বাড়িতে দিয়েছেন। এখন তাঁর যাওয়ার মতো জায়গা নেই, পরনের কাপড় ছাড়া আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। জমিটি আর নিরাপদ মনে না হলেও সেটিই তাঁর পরিবারের শেষ সম্বল।

ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি এখনো কাটেনি। রোববার নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি থেকে যেসব জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব, সেগুলো গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাঁদের অনেকে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

দেবীঘাটের ৩৬ বছর বয়সী যমুনা মাগার জানান, বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হয়। সেই সময় তিনি শুধু নিজের স্বর্ণের গয়না সঙ্গে নিতে পেরেছিলেন। এখন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যমুনা আর দেবীঘাটে থাকতে চান না।

তিনি বলেন, এর আগেও তাঁরা বন্যার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু এবারকার মতো পরিস্থিতি কখনো কল্পনাও করেননি। তাঁদের যা কিছু ছিল, সব হারিয়ে গেছে। এখন নিজের জীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তিনি।

১৬৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন