সর্বশেষ

সারাদেশ

এক সপ্তাহে জামালপুরে পাঁচ মরদেহ উদ্ধার, উদ্বেগে বাসিন্দারা

ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর
ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জামালপুর শহর ও আশপাশের উপজেলায় মাত্র এক সপ্তাহে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুই গৃহবধূ, এক কলেজছাত্রী, এক কিশোরী ও এক ব্যবসায়ী। কয়েকটি মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় বিশেষ করে নারী ও তরুণীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে; ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত ২৩ আগস্ট জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ইশরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে তাঁর দুই শিশুসন্তানও ছিল। দীর্ঘ সময় তাঁদের কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা দরজা ভেঙে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ইশরাতের মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ইশরাতের স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার তদন্ত চলছে।

এর চার দিন পর, ২৭ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় একটি দোকান থেকে সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই দোকানেই রাত কাটাতেন। সারাদিন দোকান বন্ধ থাকার পর সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

পরদিন ২৮ আগস্ট সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের একটি কৃষিজমির পাশে সেচপাম্পের ঘর থেকে রূপসী আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগের রাত থেকে রূপসী নিখোঁজ ছিল। পরে স্থানীয় একটি স্থানে তাঁর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

একই দিন রাতে জামালপুর শহরের দক্ষিণ কাচারীপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমার (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ ২৯ আগস্ট নান্দিনা রেলস্টেশনসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণও এখনো নিশ্চিত নয়।

এক সপ্তাহে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলোর মধ্যে চারজনই নারী বা কিশোরী। কয়েকটি ঘটনা আবার শহরের আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটেছে। এসব ঘটনায় নগর এলাকার নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিবেশ এবং নারী ও তরুণীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

বকুলতলা এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগের। বিশেষ করে নারী ও তরুণীদের মৃত্যুর বিষয়গুলো মানুষকে বেশি ভাবিয়ে তুলছে। প্রতিটি ঘটনার সঠিক কারণ দ্রুত বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

দক্ষিণ কাচারীপাড়ার বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের খবরে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আতঙ্ক কমাতে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তথ্য জানানো প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার। বিশেষ করে ভাড়াটিয়াদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করা গেলে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর হতে পারে।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

তিনি জানান, জুমার নামাজের সময় বিভিন্ন মসজিদে জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি, হত্যা ও আত্মহত্যার মতো বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। মানসিক চাপ বা অন্য কোনো সমস্যায় থাকা তরুণদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়। একই সঙ্গে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, শিশু-কিশোর ও তরুণদের মানসিক অবস্থার প্রতি নজর দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা নেওয়া জরুরি।

জামালপুরে সাম্প্রতিক এসব মৃত্যুর ঘটনায় তাই একদিকে যেমন সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ তথ্য ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন