বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন, তাঁদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। গুমের কারণে কোনো মা যেন সন্তানের জন্য এবং কোনো স্ত্রী যেন স্বামীর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে না থাকেন—এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নিখোঁজ করার ঘটনা নয়; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবারগুলো দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা, মানসিক কষ্ট ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকে। তাঁর ভাষায়, গুম গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম ও হত্যার মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, প্রতিবাদ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত অনেক মানুষকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম এবং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বছরের পর বছর গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তাঁদের কেউ ফিরে এলেও অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তিনি।
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে গুম ও গোপন হত্যার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গুমের ঘটনাগুলো বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে আরও অনেক কাজ বাকি। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে বলে জানান।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকরভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১১১ বার পড়া হয়েছে