কুয়াকাটায় ট্রলিং বোটে ৮০ মণ ইলিশ, সাধারণ জেলেদের জালে হাহাকার
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাত্র দুই দিনের ইলিশ শিকারে একটি ট্রলিং বোটে ধরা পড়েছে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ। বিপুল পরিমাণ এই মাছ আলিপুর মৎস্য বন্দরে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হলেও সাধারণ জেলেদের জালে দেখা দিয়েছে চরম শূন্যতা। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ট্রলিং বোটের এই একচেটিয়া মাছ ধরার কারণে বিপাকে পড়েছেন উপকূলের হাজারো সাধারণ মৎস্যজীবী।
উপকূলীয় মৎস্য বন্দর আলিপুরে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে 'এফবি আব্দুল্লাহ' নামের একটি ট্রলার ফিরে আসার পর স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রলারটির মাঝি বাদশা জানান, গভীর সমুদ্রে মাত্র দুই দিন জাল ফেলেই তারা এই বিশাল পরিমাণ ইলিশের সন্ধান পান। তবে ধরা পড়া মাছগুলোর বেশির ভাগের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় মৎস্য সম্পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, আধুনিক ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও রাডারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ট্রলিং বোটগুলো মাছের ঝাঁক চিহ্নিত করে। এরপর সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল দিয়ে নির্বিচারে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ছেঁকে তোলা হয়। এর ফলে সনাতন পদ্ধতিতে মাছ ধরা সাধারণ জেলেরা সাগরে দিনের পর দিন কাটিয়েও জ্বালানি ও শ্রমের খরচ তুলতে পারছেন না।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ইলিশ বা জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ না দিলে সাগরে প্রজননক্ষম ইলিশের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাবে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি সাগরে এই ধরনের অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত করছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য বিভাগ অবশ্য অবৈধ ট্রলিং ও জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইন অনুযায়ী নিয়মিত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বেশ কিছু অবৈধ বোট ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সাধারণ জেলেদের দাবি, বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য ও ইলিশের বংশ রক্ষায় অবিলম্বে এই আধুনিক ট্রলিংয়ের ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে