ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিকল সড়ক বাতি: অন্ধকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও ছিনতাইয়ের আতঙ্ক
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক বাতি বিকল হয়ে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও মাদকসেবীদের উৎপাত।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ প্রবেশদ্বার থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাসস্ট্যান্ডে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সড়ক বাতি বা স্ট্রিট লাইট স্থাপন করেছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এক সময় এসব সড়ক বাতি রাতের অন্ধকারে আলো ছড়ালেও, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বাতিগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে রাতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলড়া, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক বাতিগুলো বন্ধ থাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র। মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং নাইট শিফটে কর্মরত পোশাক শ্রমিকরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে তীব্র আতঙ্কে থাকেন। বাতিগুলো নষ্ট নাকি সামান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে জ্বলছে না, তা খতিয়ে দেখার মতো কোনো উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোলড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিয়মিত যাতায়াতকারী এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার সড়ক বাতি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে গোলড়া সেতু পার হয়ে মূল লেনে ওঠার সময় ডিভাইডার দেখতে না পেয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়। অবিলম্বে এই বাতিগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। নীলাচল পরিবহনের চালক হুমায়ুন বলেন, মহাসড়কের মতো একটি ব্যস্ত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক বাতিগুলো অকেজো হয়ে স্রেফ খুঁটি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সওজের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই আজ এই দশা।
বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ততম এই মহাসড়কে আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকার পকেটগুলোতে ওত পেতে থাকে অপরাধীরা। সুযোগ পেলেই যাত্রীদের মোবাইল, টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে পালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এম হানিফ জানান, কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক তার চুরির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তার চুরির বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের দেখা উচিত। তবে তিনি এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মাতব্বর জানান, মহাসড়ক অন্ধকার থাকলে অপরাধের প্রবণতা কিছুটা বাড়ে। তবে পুলিশি তৎপরতার কারণে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ডিভাইডারে পর্যাপ্ত প্রতিচ্ছবি বা রিফ্লেক্টর না থাকায় যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সড়ক বাতি সচল করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে