নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা; গ্রেপ্তার ১
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানো এবং অন্যদের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর বুধবার ভোরে মো. আবু মিয়া (৫০) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি বকুল মিয়া (৫৫)। তিনি ভুক্তভোগী কিশোরীর খালু এবং কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বকুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪৮), মেয়ে মোছা. লিমা (২১), মোছা. স্মৃতি (৩২) এবং মো. আবু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী কেন্দুয়ার একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে সে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর চিকিৎসার কথা বলে বকুল মিয়া ওই কিশোরীকে একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বকুল মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে এ কাজে সহযোগিতা করতেন। পরে কিশোরীকে অন্য একটি বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে যৌন নির্যাতন করত বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বকুল মিয়ার নির্দেশে কিশোরীকে স্মৃতির সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যেতে বাধ্য করা হতো। সেখানে তাকে অন্যদের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এসব ঘটনা প্রকাশ করলে কিশোরী ও তাঁর বাবাকে হত্যার এবং তাঁদের লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি কিশোরী।
সম্প্রতি ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ পায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট কিশোরী চট্টগ্রামে তাঁর বড় ভাইয়ের বাসায় গেলে আগে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে সে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়।
পরে চট্টগ্রামে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিশোরী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে