জয়পুরহাটে আখখেতের কঙ্কালটি নিখোঁজ চালক ফরিদের, গ্রেপ্তার ১
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটে আখখেত থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ ইজিবাইক চালক ফরিদ হোসেনের বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে নওগাঁ থেকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে কঙ্কাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
নিহত ফরিদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট সকালে ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীরহাট গ্রামের বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়ি না ফেরায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বাবা আবদুল কুদ্দুস। জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ফরিদের ইজিবাইকটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিউল ও জাকির হোসেন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ফরিদের বাবা বাদী হয়ে হোপীরহাট গ্রামের সাগর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরদিন জিতারপুর মোড়ের একটি আখখেতের পাশে শেয়ালকে মানুষের হাড়গোড় টানাটানি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা খেতের ভেতরে গিয়ে একটি কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফরিদের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে সেটি নিখোঁজ ফরিদের বলে নিশ্চিত করেন তাঁর মা-বাবা। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কঙ্কাল থেকে নমুনা সংগ্রহের পর সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার রাতেই ধর্মীয় রীতি মেনে কঙ্কালটি দাফন করা হয়েছে।
এদিকে, মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে একটি মরদেহ সম্পূর্ণ কঙ্কালে পরিণত হওয়া নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, ফরিদকে হত্যার পর অত্যন্ত দ্রুত প্রমাণ নষ্ট করতে কোনো শক্তিশালী দাহ্য বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাগরকে। জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অতি দ্রুত কীভাবে লাশটি কঙ্কালে রূপান্তর করা হলো, সেই রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে