সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার টাইমে প্রাইভেটে দেখছে ডাক্তার: হাতেনাতে ধরা
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় এক চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মোর্শেদুল ইসলামকে পরবর্তীতে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পুনরায় কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অবহেলা করে ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালের ডিউটি চলাকালীন সময়ে পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার 'দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার' থেকে তাঁকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, দুপুরের দিকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজ চেম্বারে রোগী দেখছিলেন ডা. মোর্শেদুল। এ সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি হঠাৎ করেই চেম্বার ছেড়ে চলে যান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর সন্দেহ হলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁর পিছু নেন এবং পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁকে রোগী দেখতে পান।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বেসরকারি ক্লিনিকের ভেতরেই চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চিকিৎসককে পুনরায় সরকারি হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী কারিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি হাত-পায়ের তীব্র ব্যথা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোনো তোয়াক্কা না করে চিকিৎসক ফোন পেয়েই চেম্বার ছেড়ে চলে যান। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম দাবি করেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে জরুরি ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক রাসেল আহম্মেদ জানান, ওই চিকিৎসক সেখানে এসে রোগী দেখেছেন, তবে কী কারণে হাসপাতালের ডিউটি সময়ে এসেছেন তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল-মামুন জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে