নরসিংদীতে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, পাষণ্ড স্বামী গ্রেপ্তার
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে গিয়ে পুলিশের সন্দেহের মুখে আটক হয়েছেন ঘাতক স্বামী শরীফ মিয়া। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হোসনে আরা বেগম মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামের মো. রহমান মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী শরীফ মিয়া ভগীরথপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় গরুর হাট এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে শরীফ মিয়া জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় মারলে হোসনে আরা টিউবওয়েলের ওপর পড়ে গিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তার আর জ্ঞান না ফিরলে লোকভয়ে ও আইনি ঝামেলা এড়াতে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে ঘরের মেঝেতেই লাশ লুকিয়ে রাখেন শরীফ।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন অর্থাৎ ১৮ আগস্ট রাতে সুযোগ বুঝে স্ত্রীর মরদেহ নিজের কাঁধে করে পাশের একটি কবরস্থানে নিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী। সেখানে গভীর রাতে একা একাই গর্ত খুঁড়ে লাশটি মাটিচাপা দিয়ে নিজের ঘরে ফিরে আসেন। এরপর পরিবারের লোকজনকে জানান যে, অভিমান করে তার স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে গেছেন।
ঘটনার পরদিন ১৯ আগস্ট শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে মাধবদী থানায় স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি করতে যান শরীফ মিয়া। থানায় তার কথাবার্তা ও আচরণ অসংলগ্ন মনে হলে কর্তব্যরত কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। পুলিশ জিডি না নিয়ে একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করতে বলে এবং তার ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, সন্দেহ তীব্র হওয়ার পর নোয়াকান্দা গ্রাম থেকে শরীফ মিয়াকে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যা ও কবরস্থানে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৫৫ বার পড়া হয়েছে