জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ২০১৬ সালের আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও আরও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। পুলিশকে আসামির বাড়ি চিনিয়ে দেওয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে একটি মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। বাড়ির অবস্থান না চেনার কারণে প্রতিবেশী মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়ার সাহায্য নেওয়া হয়। তাঁদের দেখানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে মোস্তফা এই দুইজনের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা আঁকেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই বছরের ১৬ মে রাতে গান শোনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। পরে তাঁদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ক্ষতবিশত মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মহর আলী স্থানীয় মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এবং স্বপন মিয়া সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। বিজ্ঞ আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মামলার বাদীপক্ষ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জ্বল, অন্তর ও ফয়জুর। ফাঁসির পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাউসার, রিফাত, সুমন ও প্রধান পরিকল্পনাকারী মোস্তফাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
১৪০ বার পড়া হয়েছে