তেলের অভাবে সাটুরিয়া হাসপাতালে অচল জেনারেটর, তীব্র গরম
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি তেল বরাদ্দের অভাবে দুটি জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। তীব্র লোডশেডিং আর ভ্যাপসা গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবাও। সরকারি এই হাসপাতালে জেনারেটর সচল না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, ফলে গরিব রোগীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একমাত্র চিকিৎসাস্থল। তবে হাসপাতালটির দুটি জেনারেটর বন্ধ থাকায় বর্তমানে এখানে চিকিৎসাসেবা প্রায় ভেঙে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে স্থাপন করা ১০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটরটি তেলের অভাবে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর আরেকটি নতুন জেনারেটর দেওয়া হলেও, জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় গত ৫ বছরে সেটি এক ঘণ্টার জন্যও চালানো সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎ চলে গেলে আগে জেনারেটরের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। কিন্তু এখন ঘনঘন লোডশেডিং ও জেনারেটর বিকল থাকায় অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে প্রসূতি মায়েদের বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে এবং প্যাথলজির পরীক্ষাগুলো অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, তিন তলার ওয়ার্ডগুলোতে তীব্র গরমে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফ্যান না চলায় ছোট শিশুরা গরমে কান্নাকাটি করছে। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অফিস কক্ষে বিকল্প উপায়ে ফ্যান চললেও রোগীদের ওয়ার্ডে কোনো বাতাশের ব্যবস্থা নেই।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জ্বালানি তেল বরাদ্দ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় জেনারেটরগুলোর বর্তমান যান্ত্রিক অবস্থা কেমন আছে, তাও বলা কঠিন। তবে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরে রোগীদের কষ্ট কমাতে দুটি আইপিএস স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে