ঝিনাইদহে কাবিখার ১০ লাখ টাকা লুট, ইউপি চেয়ারম্যানকে অভিযোগ
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীনের বিরুদ্ধে। গ্রামীণ পরিকাঠামো সংস্কারের ৪টি প্রকল্পে কোনো কাজ না করে কিংবা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারের প্রায় ১০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তদারকি ছাড়াই এই বিপুল অর্থের বিল পাস করে দেওয়ার পেছনে প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাধুহাটী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রাম থেকে মোস্তপুর শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তায় যৎসামান্য মাটি ফেলে পুরো বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে জনগণের ভোগান্তি কমেনি বরং বেড়েছে। একইভাবে সাধুহাটী পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংস্কার প্রকল্পের বড় অংশ জুড়েই রয়ে গেছে বড় বড় গর্ত, অথচ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে এই কাজের পুরো অর্থ উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বড় দুর্নীতির চিত্র মিলেছে বংকিরা দাসপাড়ার এলজিইডি রাস্তা থেকে তেলবাটি মাঠ অভিমুখী রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে। ৫ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে নামমাত্র মাটি ফেলে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে কর্মরত দিনমজুররা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকার কাজ করা হলেও বাকি ৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ স্রেফ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এর আগেও প্রতিবন্ধী স্কুল নির্মাণের নামে বড় অঙ্কের সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছেন।
সরকারি এই অর্থ হরিলুটের পেছনে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসনে আরা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাসরিন সুলতানার অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। সরেজমিনে প্রকল্পগুলো পরিদর্শন না করেই নিয়মবহির্ভূতভাবে এই চুরির চূড়ান্ত বিল পাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাবেক ইউএনও হোসনে আরা নিজের দায় এড়িয়ে জানিয়েছেন, তিনি কেবল পিআইও-র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই বিলে স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাধুহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নাজির উদ্দীন দাবি করেন, মাটির কাজ যথাযথভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। কাজের মেয়াদ অনেক দিন হয়ে যাওয়ার কারণে এখন এমনটা দেখা যাচ্ছে। এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির তদন্ত করে চেয়ারম্যান ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে