পাসের হার ১৯ বছরে সবচেয়ে কম, উত্তরপত্র আবার মূল্যায়ন সম্ভব: শিক্ষামন্ত্রী
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ৫:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০০৭ সালের পর আর কখনো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার এত কম ছিল না। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় ২২ হাজার ৩৫৬ জন কমেছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
এর আগে ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন। অন্যদিকে ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০০৭ সালের পর এবারই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে কম।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের রেওয়াজ রয়েছে। তবে এবার সেই সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সোমবার ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ সময় পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সম্পূর্ণভাবে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান তিনি। কোনো উত্তরপত্রে ভুলত্রুটি বা মূল্যায়নে সমস্যা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালের আইনে খাতা পরিদর্শনের ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। এতে কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এবারের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পেলেন ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
১৭১ বার পড়া হয়েছে