ভেরিফিকেশনে বাদ: পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি হল না শ্রমিকপুত্র সোহানের
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সব ধাপে উত্তীর্ণ হয়েও শেষ মুহূর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর মো. সোহান। দরিদ্র শ্রমিক বাবার মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষায় পাস করলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে এই তরুণের।
ঢাকা কলেজ থেকে ২০২৪ সালে বাংলা বিভাগে স্নাতক শেষ করা সোহানের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার আশাবাড়িয়া গ্রামে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের একটি রাসায়নিক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। কষ্টার্জিত উপার্জনে পড়ালেখা শেষ করে পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন সোহান।
নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক উভয় ধাপেই সফলভাবে উত্তীর্ণ হন সোহান। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের তালিকাতেও তার নাম এসেছিল। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র প্রদানের দিন জানতে পারেন, বাদ পড়েছেন তিনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বা অধিদপ্তর থেকে বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তাকে জানানো হয়নি।
সোহান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা নেই এবং তার পরিবারের কেউ প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। শতভাগ সততার সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত বলেন, কেন উত্তীর্ণ ২০ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিতে পারলেন না, তা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ করিম জানান, জেলা থেকে মোট ৩২৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ২০ জন বাদ পড়েছেন। বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই গ্রহণ করবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে