ইবি'র ৪৪ শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ: তদন্তে ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে গোপন সাংগঠনিক তৎপরতার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন বলছে, প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক তা অস্বীকার করে এটিকে একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বলে দাবি করেছেন।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষককে ঘিরে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কমিটি কাজ করবে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম (আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ড. মো. সাদাত হোসেন। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফিল হক।
অফিস আদেশে আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, "বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ" নামে টেলিগ্রামভিত্তিক একটি গ্রুপে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক যুক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গ্রুপে বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন বৈঠক, বার্তা আদান-প্রদান এবং কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতো। সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, টেলিগ্রাম গ্রুপের স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং কয়েকজন সদস্য সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করতেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক বৈষম্য, চাকরিচ্যুতি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার শিকার শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এ কার্যক্রমকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের আদর্শিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ সম্পৃক্ত থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক বা বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে