বাঘায় পুলিশ ও ডিজিএফআই পরিচয়ে চাঁদাবাজি, গণপিটুনির পর আটক ২
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় দুই প্রতারককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। আটককৃতরা নিজেদের পুলিশ ও ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বাঘা থানা পুলিশ আসামিদের আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে গত ৫ আগস্ট দুই ব্যক্তি উপস্থিত হন। তারা নিজেদের পুলিশ এবং ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ওই বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে চম্পট দেন তারা।
পরবর্তীকালে, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই দুই ব্যক্তি পুনরায় একই বাড়িতে এসে হাজির হন। এবার তারা নিজেদের পুলিশ ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং আরও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন এবং আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জালিয়াতি ধরা পড়লে উত্তেজিত জনতা দুই ভুয়া কর্মকর্তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে বাঘা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুইজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক হওয়া অভিযুক্তদের একজনের নাম হাসিবুল হাসান (২৬)। তিনি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অপর অভিযুক্ত একই এলাকার সোহেল রানা (২৮), যিনি পেশায় একজন চালক। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসিবুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিরাজুল হক জানান, প্রতারণার অভিযোগে আটক দুই ব্যক্তি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং বিষয়টির গভীর তদন্ত করা হচ্ছে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে