সর্বশেষ

জাতীয়

একটি বয়লার চালুর প্রস্তুতি, কমতে পারে গ্যাস সংকট

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে সীমিত পরিসরে এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত না থাকায় এখনই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহে ফিরতে পারছে না টার্মিনালটি।

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গতকাল বুধবার মধ্যরাতে একটি বয়লার চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরি পরীক্ষা শেষে বয়লারটি সচল করা গেলে দৈনিক প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণ করা সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত হলে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। তবে বর্তমানে মজুত কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লারটি চালু করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হবে।

মহেশখালীর টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির স্থাপনায় গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকে টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২১৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। অথচ চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার কারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকেরা সমস্যায় পড়েছেন।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন বলেন, একটি বয়লার আংশিকভাবে চালু হলেও চলমান সংকট কিছুটা কমবে। গত কয়েক দিনে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্নায় ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার সময়ে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকছে। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি টেক্সটাইল কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাস সরবরাহ ৯৯ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৬৭ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। গত কয়েক দিনে দেশে কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।

জ্বালানি কর্মকর্তারা বলছেন, একটি বয়লার চালু হওয়া ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লার সচল করা এবং নিয়মিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

১৩৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন