সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ার মঙ্গল সুখ মডেল বিদ্যালয়: আধুনিক শিক্ষার এক অনন্য বাতিঘর

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আধুনিক ও তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরেই উদ্ভাবনী পাঠদান পদ্ধতির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অসাধারণ সাফল্য দেখাচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে একের পর এক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি অর্জন করে বিদ্যালয়টি এখন অঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘরে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এক রোল মডেল। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রথম ধাপে দেশের যে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আধুনিকায়নের জন্য বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, এটি তার অন্যতম। প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিশুবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে দেখা যায়, এর প্রাক-প্রাথমিক ও অন্যান্য শ্রেণিকক্ষগুলো যেন একেকটি শিশুপার্ক। দেয়ালজুড়ে আঁকা রয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ছবি। পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের আনন্দ দিতে রয়েছে মীনা-রাজুর ছবি এবং বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী। প্রথম শ্রেণির পুরো পাঠ্যবইটি দেয়ালে চমৎকারভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়ার আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিদ্যালয়টিতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ল্যাপটপের মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দেখিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে বিজ্ঞানসহ অন্যান্য কঠিন বিষয়গুলো সহজভাবে শেখানো হয়। এ ছাড়া সরকারের ভিত্তিমূলক শিখন বা এফএলএন (FLN) কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ প্রতিষ্ঠানটি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। যার ফলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলায় শতভাগ এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গণিতে প্রায় ৯৫ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করেছে।

শুধু পড়াশোনায় নয়, সহ-শিক্ষা এবং খেলাধুলাতেও স্কুলটির অবস্থান অত্যন্ত গৌরবময়। ২০২৬ সালে বিভাগীয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিদ্যালয়টি বরিশাল বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। এ ছাড়া স্কাউটিং কার্যক্রমে এই প্রতিষ্ঠানের কাব স্কাউটরা গত ১০ বছরে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডসহ মোট ১০৪টি জাতীয় স্তরের পুরস্কার অর্জন করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৭৬৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং ১৬ জন দক্ষ শিক্ষক পাঠদান পরিচালনা করছেন। নিয়মিত শিখন মূল্যায়ন ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এই অর্জনের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগমও বিদ্যালয়টির এই চোখধাঁধানো অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

৮০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন