জয়পুরহাটে ১৭ দিন বিদ্যুৎহীন আইএইচটি, অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটের গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ট্রান্সফরমারের তার চুরির পর টানা ১৭ দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎহীনতার কারণে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। সামনে চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও এমন অচলাবস্থায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ২৮৮ জন শিক্ষার্থী।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর আইএইচটি-তে ঘটে যাওয়া এই চুরির ঘটনায় বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসকদের শিক্ষা কার্যক্রম। জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার হাউসের গ্রিল কেটে ট্রান্সফরমারের মূল্যবান তামার তার চুরি করে নিয়ে যায়। এই চুরির পর আকস্মিক লো-ভোল্টেজের কারণে হোস্টেলের ফ্যান, লাইটসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে পুরো ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে পড়ে।
এদিকে বিদ্যুৎহীন ক্যাম্পাসে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সাময়িক আলো ও পানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হলেও তা দিয়ে ল্যাবরেটরি বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর আইএইচটি প্রশাসন এক নোটিশের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য আবাসিক হলগুলো খালি করার নির্দেশ দেয়। এতে করে ল্যাবরেটরি ও ফার্মেসি বিভাগের ২৮৮ জন আবাসিক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের চতুর্থ বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অত্যন্ত নিকটবর্তী। দেশের অন্য সকল ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেও জয়পুরহাটের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় তারা পড়াশোনায় মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করে ক্লাসে ফেরার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আবদুর রহমান সরকার জানান, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমারটি ওই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি। তাই নিয়মানুযায়ী আইএইচটি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করা পর্যন্ত সেখানে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।
আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নতুন ট্রান্সফরমার বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে ঘটনার পর স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পুলিশ এখনও জড়িত কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
১১০ বার পড়া হয়েছে