খুলনায় আজমুল হত্যা: গ্রেপ্তার সাবেক ছাত্র আসিফের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ড মামলায় সাবেক ছাত্র শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৬। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব বা এসআরবি-৬-এর বিশেষ কোম্পানি ও গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের বাসিন্দা। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য তাকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ জানায়, একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল এবং আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে আজমুলের মৃত্যুর পর সে ভয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার রাতে সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সে ওই ভবনে আজমুলকে মারধরের ঘটনা নিজের চোখে দেখেছে বলে দাবি করেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চুরির অপবাদ দিয়ে আজমুলকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চলে। একপর্যায়ে মারধরের হাত থেকে বাঁচতে চারতলার ছাদ থেকে নিচে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে আজমুল। কিন্তু অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে তার করুণ মৃত্যু হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আরও জানায়, ম্যাচ ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাসনাত হাবিব রিফাত এই মারধরের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে অবস্থিত একটি জুস কর্নারের মালিক তারেক হাসান ওরফে রুবেল আজমুলকে সবচেয়ে বেশি মারধর করেছিলেন বলে সে দাবি করে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত চারজনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি মারধরে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে