সেউতা সীমান্তে ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মরক্কো থেকে হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশীর আকস্মিক প্রবেশের পর উত্তর আফ্রিকার কাছে অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সাগরে ভাসমান বিশেষ প্রতিবন্ধক বসিয়ে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্পেন সরকার।
স্পেনের ছিটমহল সেউতায় গত সপ্তাহে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশের পর দেশটির সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইউরোপজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কো ও সেউতার মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় ভাসমান ব্যারিয়ার স্থাপন করছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরক্কো থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকে রাতের অন্ধকারে সেউতা ছেড়ে চলে যান।
নতুন ভাসমান প্রতিবন্ধকটি প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ। বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে রাখা এই কাঠামো পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি স্পেনের নৌবাহিনী নোঙর করা বয়ার আরেকটি সারি বসিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে।
স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের ঢলের পেছনে মানব পাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ভূমিকা থাকতে পারে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা জুডিথ সান্ডারল্যান্ড বলেন, সমুদ্রে স্থাপিত এই প্রতিবন্ধক এড়িয়ে কেউ সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সেউতায় থাকা অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী জানিয়েছেন, তাঁরা যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার কারণে নিজেদের দেশ ছেড়েছেন। সুদান থেকে আসা ২৪ বছর বয়সী কামাল ওমর বলেন, তিনি মরক্কোয় ফিরে যেতে চান না এবং ইউরোপে নিরাপত্তা ও আশ্রয় চান।
সেউতার সংকট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একাধিক সদস্যদেশ জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেন সরকার নিজেদের অভিবাসন নীতি নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে অবস্থান তুলে ধরেছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে