৫ লেকের দূষণরোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে রাজধানীর লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং প্রযোজ্য ভবনগুলোতে এসটিপি স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে লেক পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, তলদেশের স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাথমিক এবং ছয়টি মাধ্যমিক পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য লেকে প্রবেশ করছে। এ সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে।
লেকগুলোর দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধের পাশাপাশি ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এলাকার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লেকের ভাসমান বর্জ্য অপসারণে বর্তমানে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুইটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভাসমান এক্সকাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।
লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ কমাতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত থাকার বিষয়টিও বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১৭ বার পড়া হয়েছে