বেলুচিস্তানে কয়লাখনি বিস্ফোরণে নিহত ৩২ শ্রমিক
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটার কাছে সোরাঙ্গে এলাকার ওই খনিতে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের সোরাঙ্গে এলাকার একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধারকারী দল খনির ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা শুক্রবার ভোরে জানান, এখন পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, খনি উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবার সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের পর খনির বড় একটি অংশ ধসে পড়ে এবং শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েন।
অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ জানান, বিস্ফোরণটি এত শক্তিশালী ছিল যে পাশের দুটি কয়লাখনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের কয়লাখনিতে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। খনির ভেতরে গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা এবং জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের সংকটের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
খনিশ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনি মালিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তায় অবহেলার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না এবং খনি পরিচালনার নিয়মও যথাযথভাবে মানা হয় না।
বেলুচিস্তানের হাজারো মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে কয়লাখনিতে কাজ করেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হওয়া এসব শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় এই প্রদেশটি এখনো দেশের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত হন।
১০৫ বার পড়া হয়েছে