জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প: মৃত বেড়ে ২৮, আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ৫:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে। এদিকে পরাঘাতের আশঙ্কা ও তীব্র গরমে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রদেশে মঙ্গলবার ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ভবন ধসে পড়ায় উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি কাশিমার একটি শপিংমল। ভূমিকম্পে ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে এটি গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে প্রচণ্ড গরম তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিনে কুমামোতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান এবং হিটস্ট্রোক থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি কুমামোতো অঞ্চলে ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে, যাতে গরমে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কষ্ট কিছুটা কমে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। একই সঙ্গে মূল ভূমিকম্পের পর ১০০টিরও বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তে নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।
এদিকে, কুমামোতোর একটি কাগজ কারখানার অংশবিশেষ ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে আটকে পড়া ১১ জনের মধ্যে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত শপিংমলের ভেতরে থাকা একটি ক্যাট ক্যাফে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় আটকে পড়া তাদের ২৫টি বিড়ালকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই কম্পনে কুমামোতোসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, তাঁর ৭৫ বছরের জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তিনি আগে কখনো অনুভব করেননি।
১১১ বার পড়া হয়েছে