জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ, ৩ জন অসুস্থ
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পে সরবরাহ করা পানির লাইনে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হলেও তদন্তের স্বার্থে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে।
এর আগে একই দিন সকালে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সরবরাহ করা পানি ব্যবহারের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য অস্বস্তি অনুভব করেন। তাঁদের দাবি, পানি চোখে ও মুখে দেওয়ার পর দুর্গন্ধ এবং জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পানির রং পরিবর্তন হয়ে সাদা ফেনা তৈরি হতে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পানির ব্যবহার বন্ধ করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রামের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত শুরু করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে পানির সরবরাহ লাইনে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর আলামত পাওয়া গেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মো. নাজিম উদ্দিন জানান, তদন্তে জঙ্গলের ভেতরে পানির সরবরাহ লাইনের একটি অংশ কাটা এবং প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর ভাষ্য, সেখানে দুটি পৃথক লাইন ছিল—একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের জন্য এবং অন্যটি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ ক্যাম্পে পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হতো।
পুলিশের দাবি, দুর্বৃত্তরা যৌথবাহিনীর লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাইপের ভেতরে বিষাক্ত রাসায়নিক ঢুকিয়ে পরে সেটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখে, যাতে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে। কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অ্যাডিশনাল ডিআইজি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ভূমিদস্যুবিরোধী অভিযানে যৌথবাহিনী কাজ করছে। তাঁর দাবি, এই কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতেই একটি পক্ষ এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য সাময়িকভাবে অসুস্থ হলেও চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁরা সুস্থ হয়েছেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটিকে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁর পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
১১৯ বার পড়া হয়েছে