সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় যাবে না সিজেপি, অনড় অবস্থানে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো না হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো অর্থ নেই। তবে সরকার এখনো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানতে রাজি নয়।

ভারতে চলমান আন্দোলন (ছবি সংগৃহীত)

ভারতে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি জানান, সরকার যদি এই দাবি মেনে না নেয়, তাহলে পরবর্তী আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি ও সংকটের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়েছিল, শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে সিজেপির দাবিগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করার কথা জানানো হয়।

সিজেপি তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছে। এগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

শুক্রবারের বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার দুটি দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তিনটি মূল দাবি ছাড়াও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী বৈঠকে নিজেদের অবস্থান জানাবে।

তবে সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সম্ভাবনা নেই। সরকারের অবস্থান হলো, মন্ত্রীর পদত্যাগ সহজ সিদ্ধান্ত হলেও তারা তাঁর পাশে রয়েছে এবং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন এনে আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া শিক্ষা সচিব পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছে সরকার।

তবে এনটিএর কর্মকর্তাদের অপসারণকে স্বাগত জানালেও সিজেপি এটিকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, পুরো বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় চূড়ান্ত দায় শিক্ষামন্ত্রীর, তাই তাঁর পদত্যাগ করতেই হবে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন