কলাপাড়ায় যুবলীগ নেতা হওয়ায় জমি চাষে বাধা, ২ বছর ধরে অনাবাদি
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছেলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অপরাধে প্রায় ৬ একর পৈত্রিক জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না এক পরিবার। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের বাধায় বিগত দুই বছর ধরে অনাবাদি পড়ে রয়েছে এই বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। ভুক্তভোগী পরিবারটি পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে এবং জমিতে চাষাবাদের অধিকার আদায়ে এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় বালিয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল খালেক দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন ৫.৭৫ একর জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একই এলাকার নজরুল ইসলাম নকু, হানিফ মিয়া, বশির মুন্সী ও সোহেল মুন্সীসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর এই জমিতে চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। ভুক্তভোগী খালেকের বড় ছেলে শামীম-আল-সাইফুল সোহাগ বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আবদুল খালেক জানান, ১৯৫৪ সাল থেকে তাঁর পিতা ও তিনি নিজে এই জমি চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছেন। জমিটির বিএস রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র তাঁর নামে থাকার পরেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাঁদের জমিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরণা দিয়ে এবং একাধিকবার সালিশ-মিমাংসার উদ্যোগ নিয়েও প্রতিপক্ষ সালিশে হাজির না হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি। উপায়হীন হয়ে অবশেষে কলাপাড়া থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বড় বালিয়াতলী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার মৃধা ও নেছার আলী জানান, দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে খালেক মিয়া ও তাঁর পরিবার এই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই নকু গংদের বাধায় জমিটি সম্পূর্ণ অনাবাদি বা খিল পড়ে রয়েছে, যা এলাকার কৃষির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম নকু তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, এই জমিটির আদি মালিকানা তাঁর দাদার ছিল এবং অনেক আগে দেওয়া মেয়াদী পত্তনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিগত সময়ে যুবলীগ নেতা সোহাগ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জবরদখল করে রেখেছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় বর্তমানে উভয় পক্ষই সেখানে চাষাবাদ থেকে বিরত রয়েছে এবং তিনি কাউকেই কোনো হুমকি প্রদান করেননি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর নিষ্পত্তি হবে। তবে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারি রাখছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে