ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক: ৪৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ২ সচিবকে বদলি
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৫:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে। বিশেষ করে নিট (NEET) পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে। পাশাপাশি এনটিএকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নরেশ পাল গাঙ্গওয়ার। আর স্কুল শিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টি. কে. অনিল কুমারকে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের পর দেশের বিভিন্ন অংশেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নিরপেক্ষ একটি স্থানে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা হয়।
সিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে দুটি নীতিগতভাবে সরকার গ্রহণ করেছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার আরও এক দিন সময় চেয়েছে।
বৈঠক শেষে জে. পি. নাড্ডা বলেন, আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি ছাড়াও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো সরকারিভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে