মোদির আশ্বাসে ২৭ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন ও দ্রুত বিচারের আশ্বাসের পর ২৭ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেওয়া বক্তব্যের পর ২৭ দিনের অনশন শেষ করেছেন ভারতের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
শুক্রবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ (জে পি) নড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। এ সময় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমোও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তাই সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মোদি জানান, গত আড়াই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি এড়াতে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এখানেই থেমে থাকতে চায় না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি চলতি সংসদ অধিবেশনেই এ-সংক্রান্ত আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর হাসপাতালের শয্যায় বসেই অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম ওয়াংচুক। অনশন ভাঙার পর উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তাকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বিশ্রাম নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের প্রতিবাদে গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তার অনশন দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনাকে নতুন গতি দেয়।
১৪০ বার পড়া হয়েছে