সর্বশেষ

রাজনীতি

জামায়াত থেকে বহিষ্কার হওয়ায় এমপি পদ কি থাকবে?

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামীর সব পদ ও সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় মনোনয়ন হারানোর পর তাঁর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে, নাকি বাতিল হবে। বিষয়টি নিয়ে আইন, সংবিধান এবং অতীতের নজির নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সমালোচিত এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলাম

সামাজিক মাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী মো. নজরুল ইসলামকে নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পর জামায়াতে ইসলামী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে দলটি জানিয়েছে, নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে দলের রুকন (সদস্য), কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, একই সঙ্গে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই তরুণী, তাঁর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

তদন্তের সময় গাজী নজরুল দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেন। তবে কেন দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলীয় তদন্ত কমিটি।

জামায়াতের দাবি, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্যের কর্মকাণ্ডে দলের নৈতিক মর্যাদা বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সেই বিধান অনুসারেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে গাজী নজরুলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তাঁকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দল থেকে বহিষ্কারের ফলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কি না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি দলীয় মনোনয়নে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন। আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, দল থেকে বহিষ্কারের পর তিনি আর দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে থাকার যোগ্যতা রাখেন না।

তবে এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো চূড়ান্ত বিচারিক নজির নেই। অতীতে কয়েকটি অনুরূপ ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন অথবা অন্য কারণে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে।

অন্যদিকে ৬৬ অনুচ্ছেদে ফৌজদারি মামলায় নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার বিধান রয়েছে।

বর্তমান ঘটনায় গাজী নজরুল দল থেকে নিজে পদত্যাগ করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো দণ্ডও হয়নি। ফলে সংবিধানের এসব বিধান সরাসরি প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যপদ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে পারে। কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

বাংলাদেশে দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যদের বিষয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে সব ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে গেলেও শুনানি শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। আবার জাতীয় পার্টি ও বিএনপির কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের ঘটনাও ভিন্নভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।

ফলে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন