নোয়াখালীতে ‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, চক্ষু হাসপাতাল বন্ধ
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীর মাইজদীতে একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের প্রতিবাদের মুখে সিভিল সার্জন তাৎক্ষণিকভাবে ওই হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
নিহত শিশুর নাম মো. মোসলিম (১০)। সে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তি আবুল হোসেন নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্যারামেডিকস।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় হঠাৎ লাঠির একটি অংশ মোসলিমের বাম চোখে লাগে। এরপরই তার বাবা-মা তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্মরত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া দেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরপরই মোসলিম বমি করতে শুরু করে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন দাবি করেন, শিশুর চোখের পাতার ওপরে ও নিচে শুধুমাত্র লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরণের ড্রপ ব্যবহারে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা থাকে না।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মরদেহ বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি স্থানীয় সুধারাম থানাকে জানানো হয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তবে ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা এলাকায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে সেটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে