মিত্র দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, জাতীয় ঐক্য জোরদার
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের এই মিলন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত নৈশভোজে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সরকার গঠনের পর এটিই ছিল মিত্র দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ ও মতবিনিময়।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে একসঙ্গে থাকা নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য শরিক দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সরকারের চলমান উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আহত ও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আন্দোলনকারীদের অবদানও জাতি স্মরণে রাখবে বলে উল্লেখ করেন।
সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের জন্য ভাতা, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার একটি দুর্বল অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়াতে ভবিষ্যতেও মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
১৫২ বার পড়া হয়েছে