খুলনায় মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করলেন পাষণ্ড বাবা
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ২:২১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনায় দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করেছিলেন ঘাতক বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশ। অবশেষে আদালতে হাজির হয়ে নিজের সন্তানকে নির্মমভাবে খুন করার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এই পাষণ্ড পিতা।
খুলনার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। দীর্ঘ ১০ দিন পলাতক থাকার পর তাকে ডুমুরিয়ার একটি চায়ের দোকান থেকে আটক করা হয়। এরপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারক মো. আসাদুর জামানের কাছে মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১০ জুলাই নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে হাজির হয়ে মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মায়ের দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরেই পলাতক ঘাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছিল।
নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা খুলনার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ছিল তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় মেয়ের বিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের সঙ্গে নির্জনার তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ বাবা আলিম হোসেন কাঠের ফালি দিয়ে নির্জনার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সেদিন রাতেই মেয়ের মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় বন্দি করেন ঘাতক পিতা। এরপর নিজের মোটরসাইকেলে করে লাশটি নিয়ে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাত তলা ভবনের পাশে ফেলে রেখে আসেন। পরবর্তীতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করলে এই লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।
১২২ বার পড়া হয়েছে