ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঠাকুরগাঁওয়ে বহুল আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১১ সালে সংঘটিত এই পাশবিক নির্যাতনের দীর্ঘ ১৫ বছর পর রোববার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
ঠাকুরগাঁও জেলা জজ ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর আজ রোববার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডিতদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক জরিমানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, প্রধান তিন আসামি মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই তিন আসামি কোনো ধরনের রেমিশন বা জেল কোডের বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
মামলার অপর তিন আসামি মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেন, আসামিদের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায় করতে জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় দেওয়া হলো।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল জানান, এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে