সর্বশেষ

শিক্ষা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই পরীক্ষা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবক

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেও দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কোথাও নৌকা কিংবা ভ্যানে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার দেশের অধিকাংশ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।

রাজধানীসহ কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেককে কোমরসমান পানি পেরিয়ে, আবার কোথাও নৌকা বা ভ্যানে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী ভেজা পোশাক, জুতা-মোজা এবং প্রবেশপত্র নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেন।

কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাঁদের মতে, দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আগাম আবহাওয়ার সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা স্থগিত না করাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, দুর্যোগকবলিত এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁদের মতে, একদিকে স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা এবং অন্যদিকে বন্যা বা জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা দেওয়া—এ দুই পরিস্থিতি সমতাভিত্তিক মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাঁরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং দুর্যোগকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় থাকলে পরিস্থিতিভেদে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে।

এদিকে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ পাওয়া যায়নি। তাই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। কমিটির দাবি, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অন্যান্য বোর্ডে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কুমিল্লায় কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে কক্ষ পরিবর্তন করতে হয়েছে। কোথাও নিচতলার কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পরীক্ষার্থীদের ওপরের তলায় স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও কিছু এলাকায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

১৪৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
শিক্ষা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন