সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

২৪ ঘণ্টায় মিয়ানমারে দুটি ভূমিকম্প, বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমারে দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর না মিললেও, দেশটির ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।
মায়ানমারে ভূমিকম্প

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটিতে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে সংঘটিত হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীরে। এর অবস্থান ছিল ২১.৬৯৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.৫০৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে রেকর্ড হওয়া ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০০ কিলোমিটার নিচে।

এ পর্যন্ত দুটি ভূমিকম্পেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্পবিদদের মতে, মিয়ানমার বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের একটি। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা—এই চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চলে ভূত্বকের অভ্যন্তরে নিয়মিত চাপ ও গতিশীলতা সৃষ্টি হয়, যা মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির উৎস হলো প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগাইং ফল্ট। এই সক্রিয় ফাটলরেখার আশপাশে সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনসহ মিয়ানমারের কয়েকটি বড় শহর গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের বসবাস, ফলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুন মূল ফাটলরেখা থেকে কিছুটা দূরে হলেও অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে শহরটি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অতীতেও এর প্রমাণ মিলেছে। ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে সংঘটিত ৭ দশমিক ০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে ইয়াঙ্গুনে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক দুটি ভূমিকম্প বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি না করলেও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন