বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ জানাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্ধার, ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
পোস্টে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ সহায়তার অংশ হিসেবে জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্গত এলাকায় নিরাপদ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিনের পোস্টে আরও বলা হয়, সরকার পরিচালনাকারী দল বিএনপির নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার অংশ প্রায় ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে দুর্যোগ পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে