সর্বশেষ

সারাদেশ

রংপুর মেডিকেলে বিকল ডায়ালাইসিস মেশিন, ঝুঁকিতে শত শত রোগীর জীবন

লিয়াকত আলী, রংপুর
লিয়াকত আলী, রংপুর

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটের ২৬টি মেশিনের মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ বিকল এবং বাকি ২৩টির মেয়াদ শেষ হয়েছে অন্তত ৫ বছর আগে। ফলে ৪ ঘণ্টার ডায়ালাইসিস শেষ হচ্ছে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, যা শত শত কিডনি রোগীর জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকিতে। সরকারি এই হাসপাতালে স্বল্প খরচে ডায়ালাইসিস করতে আসা রংপুর বিভাগের ৮ জেলার রোগীরা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রংপুর বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে ২০১০ সালে ৩৯টি মেশিন নিয়ে চালু হয়েছিল কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড। তবে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলা এই ওয়ার্ডের ১৩টি মেশিন আগেই অকেজো হয়েছিল। বর্তমানে ২৬টি মেশিনের মধ্যে আরও ৩টি বিকল হওয়ায় মাত্র ২৩টি মেশিন দিয়ে নামমাত্র চলছে সেবা।

চিকিৎসকদের মতে, একজন কিডনি বিকল রোগীর পরিপূর্ণ ডায়ালাইসিসের জন্য অন্তত ৪ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা মেশিনগুলো ১-২ ঘণ্টা চলার পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে বাধ্য হয়ে ৪ ঘণ্টার স্থলে ৩ বা সাড়ে ৩ ঘণ্টা ডায়ালাইসিস করেই রোগীদের বিদায় দেওয়া হচ্ছে। ফলে ডায়ালাইসিস অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাওয়ায় রোগীরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন।

এই হাসপাতালে মাত্র ২০ হাজার টাকায় ৬ মাস সপ্তাহে ৩ দিন করে ডায়ালাইসিস করানোর সুযোগ পান গরিব রোগীরা। অন্যদিকে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে প্রতি সেশনে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ৯৫ জন রোগী এলেও সক্ষমতার অভাবে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে ডায়ালাইসিস না করেই।

গাইবান্ধা থেকে আসা শেফালী বেগম জানান, সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হয় তাঁকে। কিন্তু মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে মাঝপথেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে। নীলফামারীর রমজান আলী আক্ষেপ করে বলেন, চিকিৎসকরাই বলছেন ৪ ঘণ্টা ডায়ালাইসিস জরুরি, অথচ সময়ের আগেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদুরী বেগম ও তারাগঞ্জের মোবারক আলী অবিলম্বে মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

শুধু মেশিনের সংকটই নয়, ওয়ার্ডের ওয়াটার পিউরিফাইং বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের ৩টির মধ্যে ২টিই নষ্ট। ফলে ডায়ালাইসিসের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, চরম লোকবল সংকট ও মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনের কারণে তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছেন না।

এই সংকটের বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, ডায়ালাইসিস মেশিনের চরম সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে অসহায় রোগীরা দ্রুত নতুন মেশিন স্থাপন করে জীবন বাঁচানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

১৩২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন