ভাঙন ও অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে কুয়াকাটা, বিলীনের শঙ্কায় সৈকত
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডব এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারাতে বসেছে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন বনাঞ্চল ও পর্যটন অবকাঠামো। দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্রটির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত সাগরকন্যা খ্যাত এই পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জোয়ারের তীব্রতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, যার ফলে পর্যটকদের অবাধে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঢেউয়ের তাণ্ডবে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা তীব্র ভাঙন কবলিত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ভাঙন ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মারাত্মক রূপ ধারণ করে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, শালবন, বায়োগ্যাস প্লান্ট, ইকোপার্কসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং ওয়াশরুমসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সাগরের গ্রাস থেকে সৈকত রক্ষা করতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ এবং জিও টিউব ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে জীর্ণ এসব জিও ব্যাগের স্তূপ সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে শ্রীহীন করে তুলেছে। সাময়িক এই চেষ্টা পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কোনো ভূমিকা রাখছে না, উল্টো হাঁটার পরিবেশ নষ্ট করছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার প্রধান সমস্যা এখন ভাঙন প্রতিরোধ করা। দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে স্থানীয় পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। পরিবেশবিদদের মতেও, অপরিকল্পিত প্রকল্প না নিয়ে স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।
এই বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, ভাঙন ঠেকাতে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও টিউব ফেলার কাজ চলছে। তবে কুয়াকাটাকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্প পাস ও বাস্তবায়িত হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১২২ বার পড়া হয়েছে