মুন্সীগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ খাটে রেখে পালানো স্বামী গ্রেপ্তার
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে আছমা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ খাটে ফেলে রেখে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোপালগঞ্জ থেকে ঘাতক মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পারিবারিক কলহের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, নিহত আছমা আক্তার (২৬) তাঁর স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর (৩২) ও চার বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব বলিয়াগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। আছমার আগের বিয়ের তথ্য গোপন করাকে কেন্দ্র করে এই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
ঘটনার আগের রাতে এশার নামাজের পর একটি পুরোনো পোশাককে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন স্ত্রীকে মারধর করে তাঁর পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। পরদিন সকালে আছমা মাথাব্যথার কারণে সকালের নাস্তা তৈরি করতে না পারায় আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, উত্তেজিত মুহাসিন আছমার আগের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি ও গালিগালাজ শুরু করেন। বাদানুবাদের একপর্যায়ে তিনি আছমাকে উপর্যুপরি মারধর করে গলায় চেপে ধরে ধাক্কা দেন। এতে আছমা ঘরের কাঠের পাটাতনের ওপর ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরে মারাত্মক আঘাত পান।
স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর পরিকল্পনা করেন মুহাসিন। তিনি আছমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় নিথর দেহটি খাটের ওপর ফেলে রেখে চার বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে পালিয়ে যান।
এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের ভাই বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা ইউনিট স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোপালগঞ্জের বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে ঘাতককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আদালতে মুহাসিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে