পঞ্চগড়ে জমি দখল নিয়ে মন্দির ভাঙচুরের নাটক: সাম্প্রদায়িক গুজব নস্যাৎ করল প্রশাসন
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ২:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজেরা মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে।
গত বুধবার বিকেলে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা এলাকায় জমি দখলের জেরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিজেদের দখলে রাখতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অস্থায়ী কালী মন্দির ভাঙচুরের এই নাটক সাজানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামোর এলাকার অনিল চন্দ্র রায়ের পরিবারের সঙ্গে লক্ষ্মীচরণ রায়ের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমির বিরোধ ছিল। লক্ষ্মীচরণ তাঁর জমিটি স্থানীয় জাকির হোসেনের কাছে বিক্রি করলে অনিল চন্দ্র ও তাঁর লোকজন জমিটি দখলে রাখতে সেখানে একটি অস্থায়ী মন্দির গড়ে তোলেন। এই বিরোধ মেটাতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২ জুলাই সমঝোতা বৈঠকের দিন ধার্য ছিল।
তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুধবার অনিল চন্দ্র ও তাঁর লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষ করতে গেলে ক্রেতা জাকির হোসেন ও তাঁর ভাই জুলকার রানা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অনিল চন্দ্রের লোকজন জাকিরকে বেধড়ক মারধর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মারধরের একপর্যায়ে অনিল চন্দ্রের লোকজন নিজেদের তৈরি অস্থায়ী মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে গুরুতর আহত জাকিরের গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে ভিডিও ধারণ করে এবং তা সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
গুরুতর আহত জাকিরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষ নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন।
১২৯ বার পড়া হয়েছে