ময়মনসিংহে নিহত বিএনপি কর্মীর ৫ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে বিচারের আশ্বাস এমপির
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ২:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহে পূর্ব বিরোধের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার কৃষক দল নেতা সোহেল রানার শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় নিহত বিএনপি কর্মীর পাঁচ মাসের অবুজ শিশুকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি এবং দ্রুততম সময়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ নিহত সোহেল রানার চর ঈশ্বরদিয়ার বাড়িতে সশরীরে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজে কোনো অবস্থাতেই এই ধরণের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। অনতিবিলম্বে জড়িত সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন মঙ্গলবার বিকেলে চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে সোহেল রানা নিজের ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাহমুদুল ইসলাম মাহিন, তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ হুমায়ুন কবীর আকাশ এবং মনিরুল ইসলাম।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এজাহারনামীয় বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে