জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আস্থা রাখতে চান। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমন কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সরকারপ্রধান জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি। সে কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এমন হতে হবে, যাতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগও বজায় থাকে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার সেবানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এসব আয়োজনে ব্যাপক জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল দায়িত্ব। তাই সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও নাগরিক জীবনের স্বাভাবিকতা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এবং সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে পিজিআরের সদস্যরা পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় দায়িত্বে থাকা পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। তিনি তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মোৎসর্গের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পিজিআরের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে বাহিনীটির যাত্রা শুরু হয়। একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ রাখেন। তাঁর মতে, এই নামকরণ বাহিনীটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর বাবা ও মা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় ছোটবেলা থেকেই তিনি পিজিআরের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত। রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করাও বাহিনীটির অন্যতম দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিশ্বস্ততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের কারণে পিজিআর একটি পেশাদার ও সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার।
১২২ বার পড়া হয়েছে