সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ায় জেলেদের চরম আকুতি: ‘অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করুন, নয়তো বিষ খাইয়ে মারুন’

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কুয়াকাটা
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কুয়াকাটা

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে উজাড় হচ্ছে মৎস্যসম্পদ, যার ফলে চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সাধারণ জেলেরা। এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে মহিপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা। অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করা না গেলে হাজার হাজার জেলেকে একবারে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার চরম আকুতি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন

কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকার কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুর ও আশাখালী সংলগ্ন অগভীর বঙ্গোপসাগরে দিন দিন বাড়ছে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন অবৈধ ট্রলিং বোটের দাপট। এসব বোটে জিপিএস, রাডার, ফিশ ফাইন্ডার ও ইকো সাউন্ডারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশ ছেঁকে কোটি কোটি ডিমওয়ালা মা মাছ, চিংড়ির রেণু এবং কাঁকড়ার বাচ্চা ধ্বংস করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ কাঠের ট্রলারকে অবৈধ ট্রলিং বোটে রূপান্তর করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই অপকর্ম চালাচ্ছে বলে জেলেরা অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, সরকার সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় যে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তার পুরো সুফলই নষ্ট হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় জেলেরা প্রশাসনকে স্মারকলিপি ও স্মারকপত্র দিয়ে আসলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেরা জানান, মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশের চোখের সামনে এই অবৈধ শিকার চললেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছেন।

মাছের তীব্র সংকটের কারণে উপকূলীয় জেলেদের জীবন এখন চরম বিপর্যস্ত। পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারছেন না তারা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা পরিবর্তন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছেন। এই অবৈধ শিকার অবিলম্বে বন্ধ করা না গেলে দেশের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্যসম্পদ রক্ষার্থে সংবাদ সম্মেলন থেকে জেলেরা ৫টি জরুরি দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ ট্রলিং বোট অবিলম্বে জব্দ ও ধ্বংস করা, অগভীর সমুদ্রে বটম ট্রলিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা। এই বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মহসিন জানান, উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে জরুরি সভা করে ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন