সর্বশেষ

জাতীয়

হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: স্মরণ, বিচার ও জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ৫:১১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার এক দশক পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের সেই ঘটনায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। দশ বছর পরও ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হলেও, জঙ্গিবাদের বর্তমান অস্তিত্ব নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ভিন্নধর্মী বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হোলি আর্টিজান

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র হামলা চালায় একদল তরুণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য ছিল। হামলাকারীরা জিম্মি করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

রাতভর চলা ওই সংকটের অবসান ঘটে পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে। অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। তাদের পরিচয় হিসেবে নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম (উজ্জ্বল), মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ এবং খায়রুল ইসলাম (পায়েল)-এর নাম জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হামলার আগে নিজ নিজ পরিবার থেকে নিখোঁজ হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশি এবং একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারান পুলিশের দুই কর্মকর্তা।

প্রতিবছর নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এসেছে।

গুলশান থানার সামনে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে নির্মিত ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্য ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ভেঙে ফেলা হয়। এখন পর্যন্ত সেটি পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

আগের বছরগুলোতে হোলি আর্টিজানের ঘটনাস্থলে জাপান ও ইতালির দূতাবাসের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানালেও গত বছর সেই আয়োজন দেখা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, এবার বিভিন্ন দূতাবাসের সমন্বয়ে ইতালি দূতাবাসে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঘটনাস্থলে আলাদা কোনো শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি রাখা হয়নি।

তিনি আরও জানান, নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরেও এ বছর পৃথক কোনো কর্মসূচি নেই। পুলিশের নির্ধারিত সামগ্রিক স্মরণ কর্মসূচির আওতায় সব শহীদ সদস্যকে স্মরণ করা হবে।

হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলে।

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে তাদের সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন।

দণ্ডিত সাতজন হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন (রাজীব গান্ধী), আসলাম হোসেন (র‌্যাশ), হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান (রিগ্যান), আব্দুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম (খালেদ) এবং মামুনুর রশিদ রিপন।

এদিকে, হামলার মূল পরিকল্পনায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন কয়েকজন পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে সরকারি তথ্য রয়েছে।

হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর পূর্তিতে জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

২০২৫ সালে তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেছিলেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন ছিনতাই প্রতিরোধ।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছিলেন, জঙ্গিবাদের মূল প্রবণতা পুরোপুরি শেষ হয়নি; বিভিন্ন নামে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এখনও রয়েছে।

চলতি বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ‘জঙ্গি’ শব্দটি দিয়ে যে ধরনের তৎপরতা বোঝানো হয়, তার অস্তিত্ব নেই। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কিছু উগ্রপন্থী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অতীতে জঙ্গিবাদ ছিল এবং এর ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রপন্থী প্রবণতার কিছু মানুষের প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

দশ বছর পরও হোলি আর্টিজান হামলা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং চরমপন্থা প্রতিরোধের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে সরকারি বিভিন্ন বক্তব্য নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিচ্ছে।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন