লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস: নিহত ১৪ শিশু, আটক ২
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ৫:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ করে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং বাড়ির মালিকসহ দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে।
পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় মঙ্গলবার একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির জিও নিউজকে জানান, ছাদ ধসের সময় প্রায় ২০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে ১৪ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, ছাদটি হঠাৎ ধসে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের ছাদ নির্মাণে টিআর গার্ডার ব্যবহার করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় কোচিং সেন্টারের দুটি কক্ষে শিশুরা অবস্থান করছিল।
উদ্ধার অভিযান শেষে রেসকিউ ১১২২-এর এক মুখপাত্র জানান, এক নারী শিক্ষক এবং আট শিশুকে লাহোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত কয়েকজনকে প্রথমে কাহনা তহসিল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লাহোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নিহত শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।
লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির মালিকসহ দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করছে এবং অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাহোরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরান বলেন, ভবন নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আটক করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভবনের একটি অংশ তখনও নির্মাণাধীন ছিল এবং ছাদ ধসের সময় সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন।
লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক মাহমুদ জানান, ভবনটিতে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টার পরিচালিত হতো, যা স্থানীয় এক নারী পরিচালনা করতেন।
পাকিস্তানে দুর্বল নির্মাণমান, নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সম্প্রতি পাঞ্জাবের মুজাফফরগড় জেলার আলিপুরে একটি বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে ফয়সালাবাদের জারানওয়ালায় নির্মাণাধীন একটি ঘরের ছাদ ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। গত বছরের জুলাইয়ে করাচির লিয়ারি এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন ধসে ২৭ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লাহোরের কমিশনার মারিয়াম খান জানিয়েছেন, ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে