এআই-এর যুগে শিক্ষকদের করণীয়
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আজ আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়, এটি আমাদের বর্তমান বাস্তবতা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই এআই দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তনে শিক্ষকদের ভূমিকা অতুলনীয়।
অনেকেই মনে করেন, এআই হয়তো একদিন শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করবে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। বরং এআই এমন একটি শক্তিশালী সহকারী, যা শিক্ষকদের কাজকে আরও সহজ, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে পারে।
এআই-এর যুগে টিকে থাকতে হলে তাই শিক্ষকদের প্রথম কাজ হবে প্রযুক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা। পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত কিংবা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে এআই কার্যকর সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তির উপর অন্ধ নির্ভরতা নয়, বরং তথ্য যাচাই ও বিচক্ষণ ব্যবহারই হওয়া উচিত শিক্ষকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
শিক্ষার্থীদের কেবল তথ্য দেওয়াই একজন শিক্ষকের একমাত্র দায়িত্ব নয়। বরং তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই হবে ভবিষ্যতের শিক্ষার মূল লক্ষ্য। কারণ এসব গুণ এখনো মানুষের নিজস্ব শক্তি, যা কোনো যন্ত্র পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না।
একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও আজীবন শিক্ষার্থী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার আগ্রহ এবং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই একজন শিক্ষককে সময়োপযোগী করে তুলবে।
এআই তথ্য দিতে পারে, কিন্তু অনুপ্রেরণা দিতে পারে না; উত্তর দিতে পারে, কিন্তু চরিত্র গঠন করতে পারে না; বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর অনুভূতি বুঝতে পারে না যেই কাজগুলো একজন শিক্ষক ই পারেন। তাই ভবিষ্যতের সফল শিক্ষক সেই ব্যক্তি, যিনি প্রযুক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং মানবিক শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলবেন। এআই-এর যুগে শিক্ষকের গুরুত্ব কমবে না; বরং তাঁর ভূমিকা হবে আরও গভীর, আরও দায়িত্বশীল এবং আরও অপরিহার্য। তাই এআই কে শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ নয় বরং বন্ধু হিসেবে গণ্য করা হোক।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সটি অব বাংলাদেশ।
১১৭ বার পড়া হয়েছে