সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক বিপণন ও নৈতিকতা: বাংলাদেশের বাস্তবতা
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী বিপণন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবার প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান—সবাই এখন ডিজিটাল বিপণনের ওপর নির্ভরশীল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিপণনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি কম খরচে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে অনলাইন ব্যবসা ও ডিজিটাল বিপণনের ব্যাপক বিস্তার দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
তবে এই বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নও গভীরভাবে জড়িত। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন বিক্রেতা অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া রিভিউ এবং কৃত্রিম অনুসারী (ফলোয়ার) ব্যবহার করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃত মান, মূল্য কিংবা বৈশিষ্ট্য গোপন করা হয়, যা ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘন করে এবং বাজারে আস্থার সংকট সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্যের আকর্ষণীয় ছবি দেখিয়ে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা, অর্থ গ্রহণের পর পণ্য সরবরাহ না করা কিংবা গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার করার মতো ঘটনাগুলো ডিজিটাল বিপণনের নৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে। ফলে অনেক গ্রাহক অনলাইন ব্যবসার প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।
নৈতিক বিপণনের মূল ভিত্তি হলো সততা, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপণন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঠিক তথ্য প্রদান, ভোক্তার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা পরিহার করা এবং গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অনলাইন বাণিজ্য ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই বিকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিপণনে নৈতিকতার চর্চা অপরিহার্য। কারণ গ্রাহকের আস্থা ছাড়া কোনো ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল বিপণন পরিবেশ গড়ে তোলাই আজকের সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের অন্যতম অঙ্গীকার।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
১১৫ বার পড়া হয়েছে